জন্য লোভনীয় একটি প্রস্তাব দিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর স্বত্ব বা অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় সমর্থন জানালে সদস্য দেশগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) ডলার! বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বুধবার এমন প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যমকে তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘আমি ফিফার পক্ষ থেকে এমন বার্তা পেয়েছি এবং কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বিষয়টি আমাদের নির্বাহী কমিটির (ইসি) সভায় আলোচনা করবো।’
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা তাদের সব সদস্য সংস্থাকে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। তবে এর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য সংস্থাগুলোকে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা অনুমোদন করা হলে ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে।
ব্রিটিশ একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত চিঠিতে ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রতিটি দেশের নিজস্ব ফুটবল সংস্থার ওপর নির্ভর করছে।
ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘আপনারা যদি এগোতে চান, তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কার্যকর হবে, যা আমাদের যৌথ যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আর আপনারা যদি বর্তমান পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চান এবং এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে পূর্বে ঘোষিত আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ফরওয়ার্ড প্রোগ্রাম’ (উন্নয়ন তহবিল)-এর ২.৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল তো রয়েছেই। ফলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন চক্রে, এই প্রস্তাবটির অধীনে প্রতিটি সদস্য দেশের সামনে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।’
তবে ফিফার এই প্রস্তাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে। দ্য টাইমস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটির বিরোধিতাকারীরা এটিকে ‘নিছক ঘুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ বেচাকেনার কোনো সম্পদ নয়। অন্যদিকে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বলেছে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি।