প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে একাধিক দফায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আগের বৈঠকে উত্থাপিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং নতুন করে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে।
তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যত বেশি আলোচনা করব, তত বেশি সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং কার্যকর সমাধান বের করতে পারব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় ব্যবসায়ীরা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেন। রপ্তানি সম্প্রসারণে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।