কলকাতার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত গতকাল বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিহত দেবাশীষ দত্তের পরিবারের একজন সদস্য কলকাতায় পৌঁছেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হতে পারে।
তবে নিহত অন্যদের পরিবারের সদস্যরা এখনো কলকাতায় পৌঁছাননি। তাঁরা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কয়েকজন নিহতের পাসপোর্ট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নথিপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে উপ-হাইকমিশন।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোটেলের তৃতীয় তলায় রিসেপশনে থাকা একটি এসির কিছু অংশ ফুলে উঠেছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পরে আগুনের সঙ্গে গোটা ভবনে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ওই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জন হোটেল অতিথির মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারানো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমার পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বেসরকারি এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
এ সময় তিনি দেবাশীষের মেয়ে মহিমার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। মহিমাকে স্কুল পর্যায় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দেবাশীষের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে তাঁর পরিবার। কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মুফতি আমির হামজা বুধবার রাতে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
দেবাশীষের নিজ বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে এখনো চলছে শোকের মাতম। মা স্বপ্না দত্তের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। বাবা দিলীপ দত্তও শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান দেবাশীষের শাশুড়ি আফরোজা পারভীন।
তিনি জানান, মরদেহ দেশে আনতে বুধবার সকালে তাঁর বড় জামাই ফিরোজ হোসেন ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলের মধ্যে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আশা করছেন তাঁরা।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর কুষ্টিয়ায় তাঁদের দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।