সংসদ কক্ষে আনন্দঘন পরিবেশ, সরকারি-বিরোধী দলের নেতাদের কোলাকুলি
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করার পরপরই তাঁর পাশে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন করেন এবং একটি লাল গোলাপের স্টিক দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত সব সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে হাত তুলে সালাম ও অভিবাদন জানান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে এগিয়ে এলে নতুন রাষ্ট্রপতি তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের আসন থেকে উঠে এসে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যেও পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করতে দেখা যায়। পুরো সংসদ কক্ষে তখন এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে নতুন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদেরও সালাম ও শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়।
ভোট গণনার সময় দুই প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হুইপ মিয়া নুরুউদ্দিন অপু ও রকিবুল ইসলাম বকুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংসদ কক্ষে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।