• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন AI ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা চৌদ্দগ্রামে কানাইল খালে পোনামাছ অবমুক্ত করলেন জেলা প্রশাসক শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে – ডিসির মতবিনিময় কিডনি ডায়ালাইসিসসহ উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে যাবে উপজেলায়ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী লালমাইয়ে ফিশারিতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের লাশ মারধরের ৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার ব্যক্তি, পরিবার, পেশা ও সংগঠনের দায়িত্বে ভারসাম্য জরুরি:সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে আজ ঢামেক হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এ সময় তারা চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে অতিশীঘ্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নিতে হবে, আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৪৮ ঘণ্টায় চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে নিজ চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।

তিনি জানান, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে অবস্থানকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। এরপর বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত চক্রটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, তাদের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করছে কি না, সেই তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধী কিংবা তাদের মদদদাতা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

৫০০ হাসপাতালে আনসার মোতায়েন

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

কোনো চিকিৎসক তার নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করে তার শারীরিক ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে খোঁজখবর নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category