• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন AI ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা চৌদ্দগ্রামে কানাইল খালে পোনামাছ অবমুক্ত করলেন জেলা প্রশাসক শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে – ডিসির মতবিনিময় কিডনি ডায়ালাইসিসসহ উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে যাবে উপজেলায়ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী লালমাইয়ে ফিশারিতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের লাশ মারধরের ৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার ব্যক্তি, পরিবার, পেশা ও সংগঠনের দায়িত্বে ভারসাম্য জরুরি:সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

AI ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা

অনলাইন ডেস্ক / ১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার আরও দক্ষ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই)’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক ইউজ অব এআই টুলস অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস’ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রশাসন হবে কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব।

জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে।

তার মতে, তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের গতি বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের সঙ্গে এআইয়ের সক্ষমতাকে সমন্বয় করে কাজে লাগাতে হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগের ওপর। এআই ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান সরকারি কাজকে সহজ করার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইয়ের ব্যবহারের ফলে কিছু প্রচলিত ও রুটিন কাজের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। এজন্য কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। বিশেষ করে এআই সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা ও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ‘হিউম্যান-এআই সহযোগিতা’ বাড়ানো হবে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত কাজ করছে। খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা কম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বাকি সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category