নিজস্ব প্রতিবেদক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিলে কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং এর ফলে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতাও সীমিত হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ একটি অনন্য উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেই ঢাকা তার সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার অর্থ অন্য কোনো জোট বা অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিসর অক্ষুণ্ন রেখেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই প্রধান লক্ষ্য, সেখানে বাংলাদেশ সবসময় উপস্থিত থাকবে।”
তিনি জানান, গত সপ্তাহে জেদ্দায় ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ (সিএফএম) সভায় যোগ দেওয়ার সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। এসব আলোচনায় প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে এবং আলোচনাসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক।
তবে বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি বলে জানান তিনি। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে বিষয়টি জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক চুক্তিটির অংশীদার হয়েছে।
বাংলাদেশের চুক্তিটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কারণ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ কন্টিনজেন্ট পাঠিয়ে আসছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলছে এবং আরও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে কাতার, কুয়েত ও মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘সদিচ্ছার পদচিহ্ন’ এখন আরও দৃশ্যমান উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব।