সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীল ও কম-কার্বনভিত্তিক জীবিকায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে জ্বালানি সাশ্রয়ী মাটির চুলা নির্মাণ ও ব্যবহারের ওপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঙ্জ ইউনিয়নে পূর্ব কালিনগর এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক (BARCIK)-এর উদ্যোগে এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। “Empowerment of Women through Climate-Resilient, Low-Carbon Livelihoods in Coastal Areas” প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ী মাটির চুলা তৈরির পদ্ধতি, এর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বলা হয়, প্রচলিত চুলার তুলনায় জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে কম জ্বালানি কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করেও রান্না করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন পরিবারের জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমায় পরিবেশের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি রান্নার সময় উৎপন্ন ধোঁয়া কম হওয়ায় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও এ ধরনের চুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া নারীরা প্রশিক্ষকের নির্দেশনায় নিজেরাই মাটির চুলা তৈরির বিভিন্ন ধাপ অনুশীলন করেন। স্থানীয় নারীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উপকূলীয় জনপদে জ্বালানি সংকট, বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা।