একুশে সংবাদ ডেস্ক
সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। প্রথম পাঁচ ধাপেই অধিকাংশ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টির নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করতে হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিভিন্ন বার্ষিক পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসব বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ভোটগ্রহণের প্রাথমিক সূচি করা হয়েছে।
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপে ভোটগ্রহণের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম পাঁচ ধাপেই অধিকাংশ ইউনিয়নের নির্বাচন শেষ করার চেষ্টা করা হবে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্যান্য কারণে পিছিয়ে পড়া ইউনিয়নগুলোর জন্য ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬টি ইউনিয়নসহ বাকি ইউনিয়নগুলো এসব ধাপে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার আনুমানিক ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উপনির্বাচন থাকায় জেলার কার্যক্রম দ্বিতীয় ধাপে নেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, সাধারণত জেলার সদর উপজেলাগুলোকে প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে অধিকসংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোতে ভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার মতো অধিক উপজেলা থাকা জেলায় তিনটি করে উপজেলা এবং ১০ বা তার বেশি উপজেলা থাকা জেলায় দুটি করে উপজেলা প্রথম ধাপে রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সুসংগঠিত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। প্রতি দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেবেন।
নির্বাচনী আইনের সংশোধন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।