• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
আক্কেলপুর রেলস্টেশনে যাত্রীছাউনি না থাকায় চরম দুর্ভোগ ফতেহাবাদের জন্মসনদ বিতর্কে নতুন মোড় দেবিদ্বারে বাংলাদেশি নাগরিকদের রোহিঙ্গা বলে প্রচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কোষাগার লুট করেছে: স্পিকার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সম্ভাবনাময় খাতে ফরাসি বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশাধিকার চাইল বাংলাদেশ দুর্নীতির বিচার না করে দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ব্রিকসে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে ঐকমত্য কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে কোনো গায়েবি মামলা হয়নি: আইনমন্ত্রী লিফট নয়, সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফতেহাবাদের জন্মসনদ বিতর্কে নতুন মোড় দেবিদ্বারে বাংলাদেশি নাগরিকদের রোহিঙ্গা বলে প্রচার

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি / ২৬ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে যে প্রচার চালানো হয়েছে, অনুসন্ধানে তার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। জন্মনিবন্ধন তদন্ত হওয়া তিন ব্যক্তি মুবিনা খাতুন, হাফিছা ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ রোহিঙ্গা নন, তারা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের বক্তব্যে জানা গেছে।

এ ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও ওই প্রতিবেদনটি বানোয়াট বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ।

তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বলছে, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন নেওয়া ওই তিন ব্যক্তিকে রোহিঙ্গা হিসেবে প্রচারের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক এমন তথ্যই অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুবিনা খাতুন, হাফিছা ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ছাড়াও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা লোকজন নিজেদের বয়স বা নাম সংশোধন করতে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মসনদ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কক্সবাজারের আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, নূর মামিন, মাজেদ রয়েছে।

মুবিনা খাতুনের জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের টেকনাফ সদর উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ১৯৭৮১৯১৪০৪৭১৩০১০১। তার বাবার মৃত্যু সনদে তাকে শনাক্ত করা না গেলেও মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার মা নুরজাহান বেগম কক্সবাজার সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা।

মুবিনা খাতুনের মা নুরজাহান বেগম বলেন, তার সাবেক স্বামী আবুল কাশেম অনেক বছর আগে মারা গেছেন। তার মেয়ে মুবিনাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি বলেন, তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নন। তার জন্ম কক্সবাজার সদরে এবং তার বাবা-ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের নাগরিক। মুবিনাও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।

অন্যদিকে, হাফিছার জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ২০০৫১৯১৪০৪৭১৩০১২। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন কাজল বলেন, হাফিছা, আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, আমার প্রতিবেশী। ওরা আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। চেয়ারম্যান না থাকায় এলাকায় সাধারণ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে নাগরিক সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধান করছেন।

তৃতীয় ব্যক্তি সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পোয়ানক ইউনিয়নের রছুয়ারগুনা গ্রাম উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ১৯৯৮১৯১৪০৪৭১৩০১০৫। বর্তমানে তিনি আবুধাবিতে প্রবাসে রয়েছেন।

সাইমুনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে বর্তমানে আবুধাবিতে থাকেন। জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্মসনদের প্রয়োজন হওয়ায় পরিচিত একজনের মাধ্যমে তিনি জন্মসনদ তৈরি করেন। তাদের পরিবার মিয়ানমারের নাগরিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নতুন জন্ম নিবন্ধ নেওয়া অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় জন্মনিবন্ধন থাকার পরও বয়স সংশোধনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দালালের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে নতুন করে জন্মনিবন্ধন করার উদ্যোগ নিয়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও তাদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রাজিব আমাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নিতো, আমি ছুটিতে থাকা কালীন রাজির নাগরিকদের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্ম সনদ দেয় যা পরবর্তীতে আমি জানতে পারি। আমি ঘটনান নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করি।

সবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাই ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। অথচ আলোচিত জন্মনিবন্ধনগুলো তৈরি হয়েছে ৪ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ আমি ইউজার এক্সেস পাওয়ার আগেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। কারা, কীভাবে এবং কোন আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধন করেছে, তা আমার জানা নেই।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার বলেন, ইস্যু করা জন্ম নিবন্ধ সনদ কোন রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত চলছে, তদন্তে অপরাধী প্রমানীত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category