‘পুলিশ বাদী হয়ে একটিও রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা করেনি’ | মামলা নিতে পুলিশ অস্বীকার করতে পারবে না | অপরাধী যেই হোক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে কোনো গায়েবি মামলা হয়নি। গত দুই বছরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি রাজনৈতিক মিথ্যা গায়েবি মামলাও করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী বা ভুক্তভোগীর পরিবার কারও বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে এবং তদন্ত করবে। তবে মামলা নিতে পুলিশ অস্বীকার করতে পারবে না। আইন পুলিশকে এ ক্ষমতা দেয়নি। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে রোববার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় গায়েবি মামলার বাদী হতো পুলিশ। কিন্তু গত দুই বছরে পুলিশ বাদী হয়ে একটিও রাজনৈতিক মিথ্যা গায়েবি মামলা করেনি। কোনো ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সদস্য যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে পুলিশ অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে এবং তদন্ত করবে।
তিনি বলেন, মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো ধরনের অস্বীকৃতির সুযোগ নেই। পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করতে পারবে না, কারণ আইন তাকে সেই ক্ষমতা দেয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে প্রশাসনিকভাবে যা যা করা প্রয়োজন, সবই করা হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার অবশ্যই জুলাই সনদ অনুসারেই তা বাস্তবায়ন করবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ইফ’ ও ‘বাট’ নেই। তবে এর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার সেই পথ ধরেই এগোচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলও অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে বিচার বিভাগকে আরও গতিশীল করতে দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগ এবং মামলার জট কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সমন্বয় সভায় সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. রবিউল বাশার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, খুলনা বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, তাজকিন আহমেদ চিশতি, ড. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে আইনমন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।