ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহ | বৈধ শ্রমিক চলাচল ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে ফ্রান্সের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যসহ বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ফরাসি বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়েছেন তিনি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈধ শ্রমিক চলাচল ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফ্রান্সের তিন সদস্যের সিনেটর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফরাসি প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিনেটর গিয়োম শেভ্রিয়ে, পিয়ের-আলাঁ রোয়ারোঁ ও অলিভিয়ে হেনো। তিন দিনের সরকারি সফরে তারা শনিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফরাসি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম ফরাসি সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) আওতায় পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের আগ্রহ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সের বাজারে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতসহ বাংলাদেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও চলাচলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। এর মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষ বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সংসদীয় প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফর বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে বলে বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।