• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কোষাগার লুট করেছে: স্পিকার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সম্ভাবনাময় খাতে ফরাসি বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশাধিকার চাইল বাংলাদেশ দুর্নীতির বিচার না করে দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ব্রিকসে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে ঐকমত্য কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে কোনো গায়েবি মামলা হয়নি: আইনমন্ত্রী লিফট নয়, সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, মৌলিক মানবাধিকার: জুবাইদা রহমান তিন দিন পর আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালু

ব্রিকসে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে ঐকমত্য

অনলাইন ডেস্ক / ৬ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সংযমের আহ্বান | মোদি-সির বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা | সীমান্ত বিরোধ মীমাংসায় অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীন, রাশিয়া, ভারতসহ ব্রিকসের নেতারা রোববার নয়াদিল্লিতে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে অংশ নিয়ে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি’ এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বৈচিত্র্য ও সহযোগিতাই ব্রিকসের শক্তি।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের নেতারা অংশ নেন। মোদি বলেন, ব্রিকস বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।

তিনি বলেন, ভিন্ন বাস্তবতায় বেড়ে উঠলেও সহযোগিতার মাধ্যমে ব্রিকসের দেশগুলো একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে এবং মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকস মূলত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট। পশ্চিমা প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সদস্য দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং সংঘাত, বাণিজ্যিক অস্থিরতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জোটটির অন্যতম লক্ষ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান

সম্মেলনের প্রথম দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আলোচনায় প্রাধান্য পায়। এর আগে যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে পারেননি। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল।

তবে আয়োজক ভারতের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার পর ব্রিকস নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অংশ নেন।

মোদি-সির বৈঠকে নতুন বার্তা

ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৯ সালের পর এটিই সি চিন পিংয়ের প্রথম ভারত সফর।

দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল, ভিসা কার্যক্রম এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস দেখা দিয়েছে।

মোদির সঙ্গে বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, দুই দেশ বিভিন্ন দিক থেকে ভিন্ন হলেও পরস্পরের শক্তির পরিপূরক হয়ে সহযোগিতা, পারস্পরিক সাফল্য এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি। সীমান্তে উভয় দেশই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ভারত-চীন সম্পর্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সি চিন পিং বলেন, দুই দেশের উচিত বৃহৎ পরিসরে আর্থিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং সমতাভিত্তিক ও টেকসই বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।

এদিকে সি চিন পিংয়ের ভারত সফরের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে তিব্বতিদের একটি অংশ বিক্ষোভ করেছে। ১৯৫৯ সালে চীনের দমন-পীড়নের পর বহু তিব্বতি ভারতে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা দালাই লামাও রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category