আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-অর্থ পাচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই, অভিযোগ এনসিপির মুখপাত্রের | নিজের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অস্বীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগ আমলের ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় বিচার বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিজের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় বর্তমান প্রশাসন বা সংশ্লিষ্টদের কোনো সুনির্দিষ্ট তৎপরতা কিংবা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অথচ ওই আমলের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে নামমাত্র মামলা বা কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সাজানো হচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দুদকের বর্তমান কার্যক্রমের সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হয়নি। এর অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের মতো আবারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে—এ বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের হয়রানিমূলক তৎপরতা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে লড়াই করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।