• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
সীমানা পিলার হারানোর পর থেকেই কি বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যু? মায়ের অপেক্ষায় তিন এতিম সন্তান, নওগাঁ জেলগেটে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ইরান সংঘাতে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক প্রভাব হারানোর আশঙ্কা এবারের ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে: সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ইরানকে ঘিরে ফের কঠোর বার্তা নেতানিয়াহুর, যুদ্ধ থামেনি বলে দাবি আগামীকাল উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে ইউজিসির কর্মশালা , উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ স্থানীয় সরকারকে আরো জনবান্ধব করবে : স্থানীয় সরকার বাবা হারানো ফ্লিক কৃতজ্ঞতা জানালেন সমর্থকদের : বার্সেলোনা  বাংলাদেশকে আবারও এগিয়ে নিচ্ছেন শান্ত-মুমিনুল : মিরপুর টেস্ট গুরুদ্বারে সেবামূলক কাজে অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা

ইরান সংঘাতে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক প্রভাব হারানোর আশঙ্কা

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৫৮ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ হাজার কোটি ডলারের স্টারগেট এআই প্রকল্পটি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। চীনা বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচিত করছে এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক আধিপত্যের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে।

 

শনিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চায়না ম্যাক্রোইকোনমি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী ডিন লি ওয়েই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভুল যুদ্ধ করছে এবং এই সংঘাত সক্রিয়ভাবে মার্কিন বৈশ্বিক আধিপত্যের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করেছে।’

 

গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পরপরই স্টারগেট উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন প্রাধান্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পে যুক্ত হয় বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো। পরিকল্পনার একটি প্রধান অংশ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যকেন্দ্র নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রযুক্তিগত প্রভাব বিস্তারের কৌশলকে প্রতিফলিত করে।

তবে, লি ওয়েইয়ের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানি হামলার পর এই সংঘাত সরাসরি সেই নীতির ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে। লি বলেন, ‘বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য সুবিধা অর্জন করেনি। বরং, এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ তার মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহকে আরও তীব্র করেছে।’

 

ফোরামের অন্যান্য বক্তারাও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ মার্কিন শক্তির দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তিয়ান ওয়েনলিন বলেন, এই সংঘাত একদিকে যেমন ইরানের আঞ্চলিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটও উন্মোচিত করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিয়ান বলেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য ৫ হাজার কোটি ডলারের ব্যয় একটি ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যাওয়া মার্কিন অর্থনীতির ওপর বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তিয়ান আরও যুক্তি দেন যে, ড্রোন ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের অসম যুদ্ধ কৌশল প্রচলিত মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে মার্কিন সামরিক অপরাজেয়তার ধারণাটি কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন এখন একটি কৌশলগত অচলাবস্থায় আটকে গেছে। দ্রুত যুদ্ধ শেষ করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে দেখা হবে, আর আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়লে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে। একই সময়ে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়েছে এবং মার্কিন চাপ প্রতিরোধকারী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উত্থানকে সামনে এনেছে।

রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহপরিচালক মাও ঝেনহুয়া বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মতো নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত একটি দেশকেও মোকাবিলা করতে হিমশিম খায়, তাহলে চীনের মতো বড় শক্তিগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের তার সক্ষমতা কার্যত বিলীন হয়ে গেছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা