‘মাদকের বিরুদ্ধে ক্রিকেট হকার’ এই স্লোগানে কুমিল্লা লালমাই উপজেলার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠন ক্রিকেট হকার লালমাই জোনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে হরিশ্চর আহমেদ’স এরিস্টোক্রেট ক্যাফে রেস্টুরেন্টে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
ক্রিকেট হকার লালমাই জোনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোতাহার হোসেন জুয়েল।
সংগঠনের সহ-সভাপতি জাবেদ হোসেন জাবের এর সঞ্চালনায় এসময় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালেহ আহমেদ। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড. শাহজাহান মজুমদার, গজারিয়া ছালেহিয়া দ্বীনিয়া কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ড্যাবের আজীবন সদস্য ডা. শামীম ইকবাল, এসএইচ সোর্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ আহমেদ সোহেল, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেরুল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল উদ্দিন সুমন সিকদার, মানবাধিকার কমিশন লালমাই উপজেলার সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাফর ইকবাল, মাওলানা আবু হানিফ, মাস্টার জহিরুল ইসলামসহ অনেকে।
পরে মানবতার সবচেয়ে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ সেবা রক্তদানের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় সংগঠনের ২০ জন রক্তদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে সংগঠনের ৮ জন খেলোয়াড়কে পুরষ্কার এবং লালমাই ও লাকসামের ১৩ টি ক্রীড়া সংগঠন বা ক্লাবকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে একঝাঁক তরুণ ও সামাজিক সংগঠকদের নিয়ে ২০২০ সালে ক্রিকেট হকার লালমাই জোনের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার পাশাপাশি এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কাজ করে আসছে অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোতাহার হোসেন জুয়েল বলেন, যারা ক্রিকেট পছন্দ করে এবং যারা ক্রিকেট খেলে তারা খারাপ কাজ করতে পারে না। আমার বিশ্বাস এই সংগঠন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বর্তমানে এলাকায় যে হারে মাদক বেড়েছে সেই মুহুর্তে একঝাঁক তরুণ খেলাধুলা, রক্তদানসহ সামাজিক কাজে সময় ব্যয় করছে এটা ভালো লক্ষণ। খেলাধুলার পাশাপাশি নৈতিকতা বাড়াতে হবে এবং তরুণ সমাজকে একত্রিত হয়ে সামাজিক ব্যাধি মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখতে হবে।