রংপুর প্রতিনিধি:
প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিখাদ্য (ফিড) উৎপাদন নিশ্চিতকরণ এবং নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ফিড মিলগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ (শনিবার) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ফিড মিল মালিক, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল নিরাপদ, মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত প্রাণিখাদ্য উৎপাদন, ফিড শিল্পের আধুনিকায়ন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মানসম্পন্ন ফিডের বিকল্প নেই। উৎপাদিত ফিডের গুণগত মান উন্নত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর বা অনুমোদনহীন রাসায়নিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি ফিড প্রস্তুতকারকদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ মো. হাই সরকার বলেন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সকল ফিড মিলকে আইনসম্মতভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন ও পুরাতন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে ফিড শিল্পে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। এতে খামারি, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তা—সবাই উপকৃত হবেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ প্রাণিখাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন সম্ভব হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফিড মিল মালিক ও উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে মানসম্মত ফিড উৎপাদন, নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালাটি প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারীদের মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে রংপুর জেলার বিভিন্ন ফিড মিলের মালিক, উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।