নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারকে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংলাপে বিডব্লিউজিইডি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব তুলে ধরে। সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশে প্রায় ১০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়, প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট সাশ্রয় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিডব্লিউজিইডি আরও প্রস্তাব করেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন প্রকল্পে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ প্রণোদনা, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌর সেচে কর-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অব্যবহৃত জমিতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।