• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
Headline
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রতিবাদে রাজপথে হুমা কুরেশি বিজয়ের শেষ সিনেমা দেখতে হাজির তৃষা : ‘জন নায়গন’ এবার মোদিকে হটানোর ডাক প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা : রাহুল গান্ধীর রোমানিয়া টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল  দিল্লির আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সফরের প্রস্তুতি এলপিএল’এ হাসানের জায়গায় রিপন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন রানা কিশোরগঞ্জে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাজিতপুরে একই মাঠে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

মেঘনা জামায়াতে ইসলামীতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ দুই বীমা কর্মী, ক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীরা! গঠনতন্ত্র ও ইসি নীতিমালা অমান্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক, মেঘনা / ৭১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন ও পরিচালনা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লা অঞ্চলের মেঘনা উপজেলা জামায়াতে। বহিরাগত অনুপ্রবেশ, দলীয় নিয়মনীতি লঙ্ঘন এবং আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে আসীন করাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন দলের বহু ত্যাগী নেতা-কর্মী। জাতীয় রাজনীতিতে যখন গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও গঠনতান্ত্রিক স্বচ্ছতার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি উপজেলার দায়িত্ব বহিরাগত ও গঠনতন্ত্র-বহির্ভূত পেশাজীবীদের হাতে তুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলার আভাস পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গঠনতন্ত্র ও ইসি বিধির চরম লঙ্ঘন :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রজ্ঞাপন ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী—যেকোনো প্রকার ইন্স্যুরেন্স বা বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের দলের গুরুত্বপূর্ণ বা দায়িত্বশীল পদে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় প্রতিনিধির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অনুসন্ধানে ও মেঘনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের অভিযোগে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী পথে পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগের মূল তির যাদের দিকে :
স্থানীয় ও সাবেক নেতাদের তথ্যমতে, মেঘনা জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের মূল দুটি স্তম্ভকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ:
লোকমান হোসাইন (উপজেলা আমীর): তিনি মূল মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা নন; ভিন্ন এলাকা থেকে আসা একজন ‘অনুপ্রবেশকারী’। সেননগর বাজারের একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকলেও তিনি মূলত মেঘনা জামায়াত থেকে মোটা অঙ্কের নির্দিষ্ট বেতন সুবিধা গ্রহণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিজের এলাকা না হওয়ায় মেঘনার স্থানীয় উন্নয়ন বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে অভিযোগ উঠেছে।

আনিছুর রহমান বাদল (থানা সেক্রেটারি): আমীর লোকমান হোসাইনের প্রধান খুঁটি হিসেবে পরিচিত বাদল। মাত্র আলিম পাস এই ব্যক্তির নেই কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক যোগ্যতা বা দূরদর্শিতা। তিনি মূলত একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মী। দলীয় প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এবং স্থানীয় নেতৃত্বে জটিলতার সুযোগ নিয়ে তিনি কৌশল খাটিয়ে থানা সেক্রেটারির পদটি দখল করেছেন।

দল নাকি ‘বীমা কোম্পানি’? ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভ :
অভিযোগ উঠেছে, থানা সেক্রেটারি আনিছুর রহমান বাদল নিজের ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার ফায়দা লুটতেই অপর এক অভিজ্ঞ বীমা কর্মী আনোয়ার হোসাইনকে সুকৌশলে মেঘনায় রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটান। এই দুই বীমা কর্মীর সিন্ডিকেট ও বহিরাগত আমীরের মদদে মেঘনা উপজেলা জামায়াত তার মূল রাজনৈতিক ও আদর্শিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। মেঘনা উপজেলা জামায়াতের এক সাবেক দায়িত্বশীল (নেতা) বলেন-“দেশের এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের মেঘনা উপজেলায় অসংখ্য ত্যাগী, শিক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও পুরো সংগঠনকে আজ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার দালালি সংস্থায় পরিণত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা আজ দিশেহারা।”

স্থানীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি ও প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ :
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একজন বহিরাগত এবং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এজেন্টের ওপর জনগণ কতটা আস্থা রাখতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা যদি গঠনতন্ত্র ও দেশের প্রচলিত বিধিমালা অমান্য করে কেবল আর্থিক স্বার্থভিত্তিক ব্যক্তি বা দালাল চক্রের কবলে পড়ে, তবে তা স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা ও দলীয় কাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ সংকেত।
দলের নীতি ও প্রজ্ঞাপন ধূলিসাৎ করে চলা এই বহিরাগত ও অযোগ্য সিন্ডিকেটের হাত থেকে মেঘনা জামায়াতে ইসলামীকে রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্ষদ দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না—এখন সেটাই মেঘনার সাধারণ জনগণ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রধান প্রশ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category