বরিশাল প্রতিনিধি :
উন্নয়ন মানে শুধু দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রকল্প নয়, বরং মাটির নিচে থাকা নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে দেশের নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিয়ে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে।
তাঁর অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা দিতে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।’
নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে অগ্রাধিকার
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে যতটুকু আমদানি প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই আমদানি করা হবে। দেশের চাহিদার বড় অংশ নিজস্ব উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আহ্বান
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এসব কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব ব্যক্তি ও কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রয়োজন
দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপিতে কোনো ‘গডফাদার’ বা ‘মাস্তানতন্ত্রকে’ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের আয়না হিসেবে দেখতে হবে
গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। এতে সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট হবে।
তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।