• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
Headline
উন্নয়ন মানে শুধু মেগা প্রকল্প নয়, গ্যাস উত্তোলনই আসল উন্নয়ন: তথ্যমন্ত্রী ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করে ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ: ছয় কমিটি গঠন সালমান শাহ হত্যা মামলা: অভিনেতা ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে ঘিরে গুঞ্জন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই’ দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী টিএনটির তার চোর সোহেল মোস্তো সহ ২জন গ্রেফতার পর্ব ২ নারায়ণগঞ্জে বন্দরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার -১ গাইবান্ধার বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত ‎“স্যার, এখন আমি ভালো আছি”—রোগীর এই একটি বাক্যই চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি

‎“স্যার, এখন আমি ভালো আছি”—রোগীর এই একটি বাক্যই চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি

‎ ‎মোঃ খলিলুর রহমান / ৬ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

‎দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ও কাশির সমস্যায় ভুগছিলেন রিনা রানী। নীলফামারী জজ কোর্টের পেছনের কোয়ার্টারে বসবাসকারী হরিজন সম্প্রদায়ের এই নারী বিভিন্ন সময়ে একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন এবং নিয়মিত ওষুধও সেবন করেছেন। তবে পুরোপুরি স্বস্তি পাননি।
‎পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর হৃদযন্ত্রের মাইট্রাল ভাল্ব মারাত্মকভাবে সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় মাইট্রাল স্টেনোসিস। দীর্ঘদিনের এই কষ্ট থেকে স্বস্তি পেতে শেষ পর্যন্ত তাঁর পারকিউটেনিয়াস ট্রান্সভেনাস মাইট্রাল কমিশুরোটমি (PTMC) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
‎চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে ফিরে এসে রিনা রানী বলেন, ‘স্যার, এখন আমি ভালো আছি।’ রোগীর এই কথাকেই চিকিৎসা পেশার অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
‎জানা গেছে, রিনা রানী বেশ কয়েক বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ও কাশিতে ভুগছিলেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করলেও তাঁর সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়নি। একপর্যায়ে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় Clinical & Interventional Cardiologist ডা. মো. সামিউর রহমান শাহ (সামী)-এর সঙ্গে।
‎প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডা. সামিউর রহমান জানান, রিনা রানীর মাইট্রাল ভাল্ব মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। শুধু ওষুধের মাধ্যমে ভাল্বের সংকোচনের মূল সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনায় PTMC পদ্ধতির মাধ্যমে সংকুচিত ভাল্বের মুখ প্রসারিত করা যেতে পারে বলে তাঁকে জানানো হয়।
‎চিকিৎসার পদ্ধতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অন্যান্য বিষয় রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সবকিছু শোনার পর রিনা রানী চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিতে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি সব প্রস্তুতি নিয়ে আসতেছি। আপনি আমার জন্য যা করার, তাই করে দেন।’
‎এরপর গত সপ্তাহে তাঁর PTMC সফলভাবে সম্পন্ন হয়। চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট ও বুকে চাপ থেকে তিনি স্বস্তি পান।
‎চিকিৎসা শেষে স্বামী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আবার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রিনা রানী। তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল সুস্থতার স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।
‎ডা. সামিউর রহমান শাহ বলেন, একজন চিকিৎসক রোগীর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তবে সুস্থতা দেওয়ার প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ; চিকিৎসক কেবল একটি মাধ্যম।
‎তিনি বলেন, একজন রোগীর অসুস্থতার সময়ে পাশে থাকতে পারা, তাঁর ভয় ও দুশ্চিন্তা কমাতে পারা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরতে দেখা—একজন চিকিৎসকের জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
‎রিনা রানীর এই ঘটনা শুধু একটি সফল হৃদরোগ চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি রোগীর আস্থা, চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ এবং চিকিৎসা পেশার মানবিক দিকেরও একটি উদাহরণ। চিকিৎসকের কাছে ফুল, ফল বা উপহার নয়—সুস্থ হয়ে রোগীর মুখে উচ্চারিত ‘আমি এখন ভালো আছি’ কথাটিই যেন সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category