চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
চৌদ্দগ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্রবাসী রিয়াজ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন মো. রিয়াজ উদ্দিন রাসেল। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন থেকেই তার এই পথচলা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন ‘মানবতা হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে’।
সংগঠনটির মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় নারী, সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি। শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি নতুন পোশাক, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদসামগ্রী প্রদানসহ নানা মানবিক উদ্যোগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।
শুধু ত্রাণ বা পোশাক বিতরণের মধ্যেই তার মানবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়। গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় সহযোগিতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং কর্মক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী রিকশা কিংবা ছোট ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার মতো উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের কথা চিন্তা করেও রয়েছে তার বিশেষ উদ্যোগ। প্রচণ্ড রোদে মাঠে কাজ করা কৃষকদের তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থানে স্থাপন করেছেন গভীর নলকূপ। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তিনি।
বর্তমানে মো. রিয়াজ উদ্দিন রাসেল আরব আমিরাতে কর্মরত থাকলেও দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে কোনো কমতি নেই। প্রবাসে থেকেও তিনি এলাকার তরুণদের মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করছেন। তার নেতৃত্বে একদল উদ্যমী যুবক বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন।
রিয়াজ উদ্দিন রাসেল বলেন, “ভালো কাজে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবান অনেকেই আমাদের পাশে থাকেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো অসহায় রোগীর চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে পারি, কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে পারি, গৃহহীন কাউকে ঘর করে দিতে পারি কিংবা একজন কৃষকের জন্য মাঠে পানির ব্যবস্থা করতে পারি—তখন ভেতরে এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে। কাউকে স্বাবলম্বী করার জন্য একটি রিকশা বা ছোট দোকানের ব্যবস্থা করে দিতে পারলেও যে আনন্দ পাই, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
তার ভাষায়, “একজন মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারলে মনে হয়, আমি যেন পুরো বিশ্ব জয় করে ফেলেছি। খ্যাতি কিংবা নামের জন্য নয়, মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এসব কাজ করে আসছি। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে এই মানবিক কাজগুলো চালিয়ে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজের অনেক সমস্যাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে প্রবাসে থেকেও রিয়াজ উদ্দিন রাসেলের মানবিক উদ্যোগ তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাওয়া এই মানবিক মানুষটির স্বপ্ন—একদিন চৌদ্দগ্রামের কোনো অসহায় মানুষ যেন শুধুমাত্র অর্থের অভাবে তার মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত না হন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই তার নিরন্তর ছুটে চলা।