জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ, সরকারের মোট ঋণ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, মুজিব বর্ষে ব্যয়, বকেয়া শুল্ক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
তিনি আরও জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ১২ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার আসল এবং ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে।
সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ভাস্কর্য, বেদি, স্মারক স্থাপন এবং অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারের ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। তবে এ ব্যয়ের নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে আগের সরকারের বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের হিসাবও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে আমদানিকৃত পণ্যের বিপরীতে ২৫ হাজার ৫০৪ কোটি ৩ লাখ টাকা শুল্ক ও কর বকেয়া রয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
এ ছাড়া কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের পক্ষে ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।