মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের জোরপুকুরপাড় এলাকায় জনবসতির মাঝেই অবৈধভাবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে চাপটি (প্লাস্টিক জাতীয় চাপটির পণ্য তৈরির কাঁচামাল) উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বস্তা ও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য আগুনে পুড়িয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হওয়া ঘন কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি শহর থেকে পঞ্চসার ইউনিয়নে প্রবেশের প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। প্লাস্টিক পোড়ানোর সময় নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া পথচারীদের নাক-মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক গৌতম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, পরিবেশ-সংক্রান্ত কাগজপত্র নেওয়ার হয়েছে । একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এখানে সাংবাদিকদের কোনো কাজ নেই।”
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের (ডিডি)মিজানুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উক্ত কারখানার নামে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
পরিবেশবাদীদের মতে, অনুমোদন ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানো শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা অবিলম্বে কারখানাটির কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।