গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায় দলিলে উল্লেখ থাকা চার ফুট রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে রাস্তার ওপর নির্মিত সিঁড়ি ভাঙতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী কৃষক লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সুমন গাছা মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুমন কলমেশ্বর মৌজায় দুটি সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলে বিবাদীর জমির উত্তর পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য চার ফুট রাস্তার উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাস্তার ওপর মিজানুর রহমানের বাড়িতে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে রাস্তা ব্যবহার ও স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন সুমন। তিনি একাধিকবার সিঁড়িটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি মিজানুর রহমান রাস্তা-সহ তাঁর সম্পত্তি রাশিদা বেগম নামে এক নারীর কাছে বায়না করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সুমন রাশিদা বেগমকে রাস্তার বিষয়টি জানালে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে সুমন নিজ অর্থায়নে শ্রমিক ও মিস্ত্রি নিয়ে সিঁড়িটি ভাঙতে গেলে মিজানুর রহমান কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকে সিঁড়ি ভাঙতে নিষেধ করার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী সুমন বলেন, গত ২০ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সিঁড়ি ভাঙার বিষয়ে কথা হয়। তাঁর দাবি, ওই কথোপকথনে মিজানুর রহমান সিঁড়িটি ভেঙে ফেলতে বলেন। এ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুমনের দাবি, দলিলে উল্লেখ থাকা চার ফুট রাস্তা দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি একাধিকবার মিজানুর রহমানের কাছে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেছেন। কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গাছা মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে গাছা মেট্রো থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, জমি কেনার সময় বিষয়টি বুঝে নেওয়া উচিত ছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিষয়টির সমাধানও হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।