স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা। সড়ক, কালভার্ট, ড্রেনেজ ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে বর্ষাকালে চলাচলের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায়ও সুবিধা বাড়ছে বলে তাঁদের দাবি।
একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার অনেক কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ত। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হতো। বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
উপজেলার কাশিনগর, উজিরপুর, কালিকাপুর, ঘোলপাশা, মুন্সীরহাট, শুভপুর, বাতিসা, গুণবতী, শ্রীপুর, চিওড়া, জগন্নাথদিঘী ও আলকরা ইউনিয়নসহ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক, হেরিংবোন (এইচবিবি) সড়ক, কংক্রিট সড়ক, কালভার্ট এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্রকল্প ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আবার কিছু প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে বর্ষাকালেও আগের তুলনায় সহজে চলাচল করা যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
কৃষকদের মতে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমছে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও দাবি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমানে কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত তদারকি এবং প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করছেন।
জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদে এসব অবকাঠামো টেকসই রাখতে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত কালভার্ট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। অনেক এলাকায় এখনও বর্ষাকালে পানি জমে সড়কের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই ভবিষ্যৎ প্রকল্পে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জলাবদ্ধতা হ্রাস, নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা, জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আয়তনের দিক থেকে বড় হওয়ায় চৌদ্দগ্রামের কয়েকটি প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভা উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থার আওতায় আসবে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর মনিটরিং অব্যাহত থাকলে চৌদ্দগ্রাম ভবিষ্যতে দুর্যোগ-সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।